ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আবারও সচিবালয়ে আগুন


  • আপলোড সময় : রবিবার ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৪৬ পিএম

আবারও আগুন লাগল দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে। এবার আগুনের ঘটনা ঘটেছে সচিবালয়ের নতুন ভবন—১ নম্বর ভবনের ১০ তলায়। রোববার বেলা আড়াইটার দিকে হঠাৎ ধোঁয়া দেখা গেলে শুরু হয় চাঞ্চল্য। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভবনজুড়ে বাজতে থাকে ফায়ার হুইসেল। হুইসেলের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। ধোঁয়ায় চারপাশ আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় অনেকেই তড়িঘড়ি করে ভবন থেকে নেমে আসেন।

ঘটনাস্থলে থাকা রাফিউল ইসলাম নামের এক কর্মকর্তা জানান, হঠাৎ করেই ফায়ার হুইসেল বাজতে শুরু করে। আমরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে দেখি ১০ তলার দিক থেকে কালো ধোঁয়া উঠছে। সাথে সাথেই নিচে নেমে আসি। আরেক কর্মচারী বলেন, প্রথমে মনে হয়েছিল সিগারেটের ধোঁয়া। কিন্তু পরে দেখি ধোঁয়া বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। তখন সবাই দ্রুত ভবন ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। বর্তমানে ভবনটির চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ঘটনার পর ১ নম্বর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভবন থেকে নেমে সচিবালয়ের মাঠে অবস্থান নেন। এ ভবনটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে। তাই আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই সবাইকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুন কীভাবে লাগল—তাৎক্ষণিকভাবে সেটি জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত কারণ অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

এর আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ভবনের ৬, ৭, ৮ ও ৯ তলা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া জানান, আগের আগুনে সচিবালয়ের প্রায় ২০০ কক্ষ পুড়ে যায়। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর ভবনটির সংস্কার করতে সময় লাগে প্রায় ১১ দিন। এরপর পুনরায় কাজ শুরু করা হয়। তিনি জানান, প্রতিটি তলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৪০ থেকে ৫০টি কক্ষ থাকে এবং আগের আগুনে চারটি তলার অনেক কক্ষই সম্পূর্ণ অথবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সচিবালয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্বল্প সময়ে পরপর দুটি অগ্নিকাণ্ডে উদ্বেগ বাড়ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আগুন লাগার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। তারা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ নথি, গোপন ফাইল ও প্রশাসনিক তথ্য থাকা ভবনগুলোতে অগ্নি-নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক সংযোগ, সার্ভার রুম এবং সংরক্ষণাগারের সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

এদিকে, আগুন লাগার পর সচিবালয়ের আশপাশে নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে তৎপর রয়েছে। ভবনের ভেতরের কক্ষগুলোতে তল্লাশি চলছে, কোথাও আটকে কেউ আছে কি না বা ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে—তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। আগুনের কারণে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর