ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশকে এখনও ‘বন্ধু দেশ’ বলছে ভারতীয় নৌবাহিনী


  • আপলোড সময় : সোমবার ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১১:৩৮ এএম

বাংলাদেশকে এখনও ‘বন্ধু দেশ’ হিসেবেই দেখেন ভারতের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কুমার ত্রিপাঠি। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে এখনো নির্বাচন না হওয়ায় প্রতিবেশী দেশকে নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। পিটিআই জানায়, রোববার (৩০ নভেম্বর) নেভি ফাউন্ডেশন পুনে চ্যাপ্টার আয়োজিত অ্যাডমিরাল জে জি নাডকার্নি স্মারক বক্তৃতা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এসব কথা বলেন ভারতের নৌবাহিনী প্রধান।

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। গত ২৪ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব নেয় নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। এরপর পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়েছে।

১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায়ের পর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি জানায়। তবে ভারত এখনো সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধানের মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে এখনো নির্বাচন হয়নি। তাই এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

তিনি জানান, দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠি বলেন, ‘আমরা এখনও তাদের সদস্যদের এখানে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আজ সকালে এনডিএ থেকে পাস করা একজন বাংলাদেশি অফিসার ক্যাডেটের সঙ্গে দেখা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রথম বিদেশ সফর বাংলাদেশে করার পরিকল্পনা ছিল। আরও মর্যাদাপূর্ণ রাজধানীতে যাওয়ার প্রস্তাব থাকলেও তিনি তা নাকচ করে প্রথমে বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশে ভারতের প্রতি যে আন্তরিকতা, আতিথেয়তা এবং কৃতজ্ঞতা তিনি দেখেছেন, তা ছিল অসাধারণ।

ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধানের এই অবস্থান দুই দেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক ধরণের একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন শেষে সম্পর্ক কোনদিকে যায়—তা নিয়ে এখন নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।


এ সম্পর্কিত আরো খবর