ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সামলাতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী আরব উপসাগরে কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা তাহসিফের সঙ্গে বারে দেখা যাওয়া জেরিকা দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২৯ ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান অর্জন হলো না কেন, দায় কার? হাম ও হামের উপসর্গে দেশে মোট মৃত্যু বেড়ে ১২৫৪ প্রধানমন্ত্রীর নজরে টাঙ্গাইলের বাবুপুরের মাঠ: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সড়ক অবরোধ

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১:৩১ পিএম

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ফের সড়ক অবরোধসহ ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবেন। গত রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে তারা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেন। পরে আন্দোলন থেকে সড়কগুলো খুললেও শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, অধ্যাদেশ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

রাতেও শিক্ষা ভবনের সামনেই অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি শক্তিশালী করেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এতে প্রায় দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পরিচয় সংকট এবং একাডেমিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশ করলেও চূড়ান্ত অধ্যাদেশের কাজ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় সংকট, পাঠদান জটিলতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। জনদুর্ভোগ এড়াতে তারা শিক্ষা ভবনের পাশে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছেন।

গত ১২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাত কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। একই বার্তায় বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও বাতিল করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তকে সমর্থনযোগ্য নয় বলে মনে করেন। তারা জানান, সাত কলেজের একীভূতির প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতি এবং অস্পষ্ট। ফলে শিক্ষার্থীদের চলমান একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ অধ্যাদেশ বিলম্বিত হলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সময়সূচি স্থগিত হতে পারে।

অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, অবস্থান ও ঘেরাওসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য পরীক্ষা করে দেখার পাশাপাশি মন্ত্রণালয়কে দ্রুত চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত এগিয়ে না গেলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে। এছাড়া আন্দোলনকালে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ এবং প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে বলে শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, ব্লকেড কর্মসূচি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও এটি তাদের একমাত্র পথ। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা বিষয়গুলো মন্ত্রণালয় থেকে উপেক্ষিত হয়েছে। তারা আশাবাদী, চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি হলে শিক্ষার গতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে এবং শিক্ষার্থীদের পরিচয় সংকট সমাধান হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মধ্যে একত্রিত হয়ে শিক্ষামূলক অধিকার ও চূড়ান্ত অধ্যাদেশের দাবি জানাচ্ছেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর