ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনের দিকনির্দেশনা প্রধান উপদেষ্টার


  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৬ পিএম

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই নির্বাচনকে সুন্দর, সুষ্ঠু এবং স্মরণীয় করে রাখা হবে। তিনি বলেন, ইতিহাস আমাদের হাতে এমন একটি সময় এনে দিয়েছে যা অন্য প্রজন্মের ভাগ্যে নাও জুটতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশ একটি নতুন পথে অগ্রসর হবে, আর ব্যর্থ হলে জাতি পিছিয়ে পড়বে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এ সময় সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অতীতে অনেক নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু বিগত আমলগুলোর নির্বাচন সম্পর্কে যেকোনো সুস্থ মানুষই বলবে—ওগুলো প্রকৃত নির্বাচন ছিল না, বরং প্রতারণা ছিল। তাই আগামী নির্বাচন হবে একটি ভিন্ন দায়িত্ব, একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আমরা যদি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করি, তাহলে নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।

ইউএনওদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলেই সরকার তার দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। আগামী নির্বাচন ও গণভোট—উভয়ই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য হলেও গণভোট নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যৎ শত বছরের ভিত্তি। গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে রূপান্তর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নতুন যোগ দেওয়া ইউএনওদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন করা। তিনি পোলিং স্টেশনগুলো পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভোটারদের গণভোট সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটারদের বোঝাতে হবে—আপনারা মন ঠিক করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে আসুন।

প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ধাত্রী ভালো হলে নবজাতকও ভালো হয়। তাই দেশ যেন একটি সুস্থ ও শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্ম দিতে পারে, সে জন্য ইউএনওসহ মাঠ প্রশাসনকে যেকোনো পরিস্থিতিতে সৃজনশীলভাবে কাজ করতে হবে এবং অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি তিনি নারীদের ভোটকেন্দ্রে আসার বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

তিনি জানান, খুব শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। তাই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কোন কাজ কখন এবং কীভাবে করবেন—এ বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম ও জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর