ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টার আকস্মিক পদত্যাগ


  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৮:২০ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা—মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া—তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই উপদেষ্টার দায়িত্বও শেষ হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা শূন্যতা তৈরি হলো।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত বছরের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে যুবসমাজের প্রভাবশালী তিন নেতা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান। তাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম দায়িত্ব পান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে। অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃস্থানীয় দুই সংগঠক মাহফুজ ও আসিফ প্রথম থেকেই সরকারের মন্ত্রীপর্যায়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।

মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং পরে উপদেষ্টা পদমর্যাদায় তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নীতি সংস্কার, গণমাধ্যম সেক্টরের স্বচ্ছতা ও তরুণমুখী তথ্য-পরিবেশ তৈরিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে সরকারি সূত্র জানায়। তার অধীনে বেশ কয়েকটি যুগোপযোগী নীতি প্রণয়ন ও ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থার সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

অপরদিকে আসিফ মাহমুদ প্রথমে শ্রম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন। শ্রম খাতে নীতি-পরিবর্তন, শ্রমিক নিরাপত্তা ও মজুরি কাঠামো উন্নয়নসহ কয়েকটি পরিকল্পনা সামনে এগিয়ে নেন তিনি। পরবর্তীতে তাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকারের কিছু নীতিগত পরিবর্তন ও তরুণদের কর্মসংস্থানে নতুন কর্মপরিকল্পনার খসড়া তৈরির দায়িত্বও তিনি পালন করছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন সরকারের অধীনে ছাত্রনেতাদের অংশগ্রহণকে জনমনে ‘পরিবর্তনের প্রতীক’ হিসেবে দেখা হয়েছিল। সরকারে তাদের সক্রিয় ভূমিকা তরুণ সমাজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে হঠাৎ পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে সরকার বা কোনো উপদেষ্টাপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিশ্লেষণ ও প্রশ্ন উঠছে—অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে কোনো মতবিরোধ কি এর কারণ, নাকি নীতি-সংস্কারের গতিবিধির সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে?

জানা গেছে, দুই উপদেষ্টাই তাদের পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, সরকারের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত, নীতি পরিবর্তন বা অভ্যন্তরীণ চাপের কারণেও তারা সরে দাঁড়াতে পারেন। সরকারি সূত্র বলছে, শূন্য হওয়া পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জাতীয় রাজনীতির অস্থির ও পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে দুই তরুণ উপদেষ্টার পদত্যাগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর চলমান নীতি-সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন প্রশাসন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর