ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা শেষে স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৯:৩৯ এএম

মহান বিজয় দিবসে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফটক। দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে প্রস্তুতি শেষে এবং রেওয়াজ অনুযায়ী টানা চার দিন সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে স্মৃতিসৌধ এলাকা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করার পরই সর্বসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধের ফটক খুলে দেওয়া হয়। এরপরই হাজারো মানুষ সারিবদ্ধভাবে শহীদ বেদির দিকে এগিয়ে যান শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

এর আগে ভোর রাত থেকেই স্মৃতিসৌধসংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কজুড়ে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নেমেছে। কেউ কেউ চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেছেন বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

ধামরাইয়ের সানোড়া ইউনিয়নের মহিষাসী এলাকা থেকে আসা ফয়সাল মাহমুদ বলেন, প্রতি বছর মহান বিজয় দিবসে ভোর রাতেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে চলে আসেন তিনি। এতে করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হওয়ার পর দ্রুত প্রবেশ করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, “সরকারের ঊর্ধ্বতনরা চলে যাওয়ার পরই ভেতরে ঢুকেছি। বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে তারপর ফিরে যাব।”

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নিয়মিত পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।


ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের স্মরণে মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এ উপলক্ষে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাভারের আমিনবাজার থেকে শুরু করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হয়েছে। ১৩টি সেক্টরের মাধ্যমে চার হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তারা পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন এবং জনগণের জান-মাল রক্ষাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের শৈথিল্য রাখা হয়নি।

মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসারই প্রতিফলন। লাল-সবুজের পতাকা হাতে বীর শহীদদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতি নতুন করে অঙ্গীকার করছে—মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার।


এ সম্পর্কিত আরো খবর