চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, উসকানি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। মামলার ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রমে নিজের বিচারকার্য টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
বুধবার বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ আবেদন উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন বলে জানানো হয়েছে।
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত রয়েছেন। একই সঙ্গে আদালতে হাজির ছিলেন আসামি হাসানুল হক ইনু। পুলিশি প্রহরায় তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয় এবং তার উপস্থিতিতেই সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চলছে।
এর আগে মামলার পঞ্চম দিনের মতো সাক্ষ্য দেন কাশিমপুর কারাগার-২ এর সাবেক ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি মামলার পঞ্চম নম্বর ও জব্দতালিকার সাক্ষী। গত ১৫ নভেম্বর তিনি ট্রাইব্যুনালে নিজের জবানবন্দি প্রদান করেন। সাক্ষ্যে তিনি মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও আলামতের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
মামলার আগের দিনগুলোতেও একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের উপপরিদর্শক শাহেদ জোবায়ের লরেন্স মামলার চতুর্থ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী তাকে জেরা করেন। উপপরিদর্শক এর আগে ৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।
এ ছাড়া তদন্ত সংস্থার রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেন জব্দতালিকার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকেও মামলার দ্বিতীয় নম্বর সাক্ষী হিসেবে জেরা করা হয়। ধারাবাহিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল।
মামলার প্রথম সাক্ষী মো. রাইসুল হক তার জবানবন্দিতে জানান, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় তিনি কুষ্টিয়া শহরে অবস্থান করছিলেন। ছাত্র-জনতার ওপর হামলার প্রত্যক্ষ নির্দেশ ও উসকানি হাসানুল হক ইনু দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। হামলার সময় তার কপালে গুলি লাগে, তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ওই ঘটনায় ছয়জন নিহত হন বলে তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান এবং ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
এর আগে ৩০ নভেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। একই দিন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে ইনুর করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় ছয়জন শহীদ হন এবং বহু মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয় এবং আটটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
আকাশজমিন/ আরআর