ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বড় আশা নিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম, ছেলে আমার লাশ হয়ে ফিরল


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১:১৫ পিএম

বড় স্বপ্ন আর মানুষ হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার তেজগাঁও কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন ছেলে সাকিবুল হাসান রানাকে। কিন্তু সেই স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে কলেজের ছাত্রাবাসে ঘটে যাওয়া সহিংসতায়। ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাকিব। সন্তানের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার বাবা আলী হোসেন।

বুধবার দুপুরে সাকিব হত্যার বিচারের দাবিতে সহপাঠীদের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে আলী হোসেন বলেন, তার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। অনেক কষ্ট করে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ছেলে আজ ফিরেছে নিথর লাশ হয়ে। তিনি বলেন, “বড় আশা নিয়ে যে সন্তানকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম, সে আজ লাশ হয়ে ফিরল। এখন সে শুধু দেওয়ালের পোস্টার।”

আলী হোসেন অভিযোগ করেন, ছাত্রাবাসে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে হামলার স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, “ক্যামেরার ফুটেজ থাকার পরও তদন্ত কেন এগোচ্ছে না, আসামিরা কেন বাইরে—এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর পাচ্ছি না। আমি প্রশাসনের কাছে কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না। শুধু চাই, আমার ছেলের হত্যার সঠিক বিচার হোক এবং দোষীরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাক।”

ছেলের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল না—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে আলী হোসেন বলেন, তার ছেলে একজন সাধারণ গ্রামের শিক্ষার্থী ছিল। পড়ালেখায় ভালো ছিল বলেই মানুষ হওয়ার আশায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু রাজনীতির সহিংসতায় সে প্রাণ হারাল। কেন তাকে হত্যা করা হলো, সেই কারণও তিনি জানেন না বলে জানান।

তিনি বলেন, “আমার ছেলে হারানোর কষ্ট আমি ছাড়া কেউ বুঝবে না। আমি শুধু চাই, আমার ছেলের খুনিরা যেন কোনোভাবেই পার পেয়ে না যায়।”

এদিকে, সাকিবুলের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তার সহপাঠীরা। তারা বলেন, দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে আন্দোলন থেকে তারা পিছু হটবেন না।

সহপাঠী সাইফুর রহমান বলেন, সাকিব তাদেরই একজন ছিল এবং সে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল না। প্রকাশ্যে হামলার শিকার হয়ে তার মৃত্যু হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান নয়। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।

আরেক শিক্ষার্থী ফারহান আহমেদ বলেন, একজন সাধারণ শিক্ষার্থী এভাবে প্রাণ হারাবে আর সবাই চুপ থাকবে—এটা হতে পারে না। সাকিবুল হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা গুরুতর আহত হন। তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর