ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জানাজার আগে জাতির কাছে প্রশ্ন রাখলেন হাদির ভাই


  • আপলোড সময় : শনিবার ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৫২ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির জানাজার আগে আবেগঘন বক্তব্যে জাতির কাছে একাধিক প্রশ্ন তুলে ধরেছেন তাঁর বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতির মধ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জানাজা শুরুর আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শরীফ ওসমান বিন হাদির একটি শিশু সন্তান রয়েছে, যার বয়স মাত্র আট মাস। সন্তান জন্মের পর হাদি তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন এমন একটি নাম রাখতে, যাতে বিপ্লবী চেতনা ও সাহসিকতার প্রতিফলন থাকে। সেই অনুযায়ী সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল ‘ফিরনাস’, যার অর্থ বিপ্লবী ও সাহসী। তিনি বলেন, আজ সেই সন্তানের দিকে তাকানো যায় না। হাদির মা শোকে প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছেন, বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। পরিবারের জন্য এই শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

আবেগ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে আবু বকর সিদ্দিক আরও বলেন, ছয় ভাই-বোনের মধ্যে শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন সবার ছোট। আজ সেই ছোট ভাইয়ের লাশ তাঁকে নিজের কাঁধে বহন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আজ জাতির কাছে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত দাবি নেই, আছে শুধু একটি প্রশ্ন।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানী ঢাকায় একজন মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং সাত থেকে আট দিন পার হলেও যদি খুনিরা পার পেয়ে যায়, এর চেয়ে লজ্জাজনক বিষয় আর কী হতে পারে। যদি খুনিরা সীমান্ত পার হয়ে যায়, তাহলে মাত্র পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টার মধ্যে তারা কীভাবে চলে গেল—এই প্রশ্ন জাতির সামনে রেখে গেলেন তিনি।

জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জড়ো হন। শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আবহে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। জানাজা শেষে মরদেহ বহনের সময় অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে আততায়ীর গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। পরদিন শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয়। বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর পর এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।

এদিকে শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হচ্ছে। দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর