ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সিভিয়ন ডিউ ও সঞ্জয় চিসিমকে ফের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ায় আবারও তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, রিমান্ডপ্রাপ্ত এই দুই আসামি এজাহারনামীয় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদ (৩৭) এবং তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিকে অবৈধ পথে ভারতে পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন—এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত তথ্য পাওয়া গেছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, প্রযুক্তিগত সহায়তায় পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিভিয়ন ডিউ ও সঞ্জয় চিসিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক আসামিদের অবস্থান, যোগাযোগ মাধ্যম এবং পালিয়ে যাওয়ার পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে তদন্ত সংস্থা।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি সিভিয়ন ডিউ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জুয়েল আড়েং-এর ভাগিনা বলে জানা গেছে। এ তথ্য মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই সময় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি একটি অটোরিকশায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলে পরে তিনি মারা যান।
এই ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ থেকে পরবর্তী সময়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তে এরই মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক প্রধান আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুব শিগগিরই মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত কি না এবং এর পেছনে কারা জড়িত—সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ডে নেওয়া দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর