ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বড়দিনের আনন্দে মুখর খ্রিষ্টানরা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১০:১৪ এএম

আজ ২৫ ডিসেম্বর, খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড়দিন’। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট বেথলেহেমে এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন স্মরণে বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় দিনটিকে বিশেষ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, প্রার্থনা ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও খ্রিষ্টান ধর্মানুসারীরা আজ বড়দিন উদযাপন করছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করাই এ দিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বড়দিন উপলক্ষ্যে আজ দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গির্জাগুলো নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। গির্জাগুলোতে আলোকসজ্জা, ফুল, ব্যানার ও ধর্মীয় প্রতীক দিয়ে সাজানো হয়। গত সন্ধ্যা থেকেই অনেক গির্জা ও বিভিন্ন স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে, যা বড়দিনের উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

বড়দিনকে ঘিরে খ্রিষ্টান পরিবারগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক পরিবারে তৈরি করা হচ্ছে কেক ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। পরিবারের সদস্যদের একত্রিত হয়ে খাওয়াদাওয়া ও আনন্দ উপভোগ করাই বড়দিনের অন্যতম আকর্ষণ। অনেক এলাকায় ধর্মীয় গানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করছেন।

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনেকেই বড়দিন উপলক্ষ্যে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যান। এ কারণে রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে অনেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়েই তারা দিনটির আনন্দ উদযাপন করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড়দিনের আমেজ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় কৃত্রিমভাবে স্থাপন করা হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি ও শান্তা ক্লজ। আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা। বড়দিনের আগের রাতে অনেক গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এসব প্রার্থনায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন এবং শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবকল্যাণ কামনা করেন। আজ সকাল থেকেও বিভিন্ন গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশুখ্রিষ্ট মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। তার শিক্ষা মানবপ্রেম, ক্ষমা, সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা বহন করে। বড়দিনে সেই শিক্ষার আলোকে মানুষ নিজেদের জীবনকে আরও মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শুভ বড়দিন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির প্রতীক। এ দিনটি মানুষকে পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হতে এবং সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর