ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

ডিসির রাতের কম্বল বিতরণে শীতার্তরা পেল স্বস্তি


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৫৮ পিএম

চট্টগ্রামের শীতার্তদের পাশে মানবিক ডিসি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 

চট্টগ্রামে হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। গতরাতে শহরে তাপমাত্রা নেমে আসে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। ঘরের মানুষদের জন্য কম্বল বা গরম কাপড় থাকলেও ফুটপাত, রেলস্টেশন, ডিসি হিলের পাদদেশ কিংবা উন্মুক্ত স্থানগুলোতে থাকা ভাসমান মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ছিল না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, যিনি সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত, দিনভর নির্বাচনী ও প্রশাসনিক কাজ শেষে ঘুমাতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে গভীর রাতে তিনি ভাবতে লাগলেন—শহরের অসংখ্য অসহায় মানুষ যাদের রাতের ঘুমও কম্বল না থাকায় অস্থির। সেই চিন্তা তৎক্ষণাৎ কার্যক্রমে রূপ নেয়।

তিনি বাসা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে শীতবস্ত্র বিতরণের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে, রাতেই কম্বল বিতরণের ব্যবস্থা করেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক নিজে উপস্থিত থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও বসতবাড়িহীন মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। ডিসি হিল, কাজির দেউরি, সিআরবি, রেলস্টেশন এলাকা, শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন স্থান এবং মেহেদীবাগসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিসি নিজে ঘুরে ঘুরে ৫০০টি কম্বল বিতরণ করেন।

মেহেদীবাগ ও কাজির দেউরির ফুটপাতে দুই পথশিশু তীব্র শীতে কাঁপছিল। ডিসি তাদের আদর করে জড়িয়ে ধরেন। গভীর রাতে মানুষের চোখের সামনে জেলা প্রশাসককে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করতে দেখে অনেকেই বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন, কেউ কেউ চোখের কোণে কৃতজ্ঞতার অশ্রু লুকান।

শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন।

এই এক রাতের মানবিক উদ্যোগ শুধু শীত নিবারণই করেনি, বরং ভাসমান মানুষের মনে আস্থা ও বিশ্বাসের সঞ্চার করেছে—রাষ্ট্র এখনও তাদের কথা ভাবে। চট্টগ্রামের শীতল রাত যেন সেই বিশ্বাসের উষ্ণ সাক্ষী হয়ে রইল।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার এই মানবিক কার্যক্রম দেশের অন্যান্য জেলা প্রশাসকদের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। শীতের রাতে কম্বল পাওয়া মানুষের চোখে যে স্বস্তি ফুটে উঠেছে, তা ডিসির মানবিক দৃষ্টান্তের জীবন্ত প্রমাণ।

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর