ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বসুন্ধরায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:০৮ পিএম

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গতকাল বুধবার রাতে নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামের এক আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত নাঈম কিবরিয়া পাবনা জেলা জজ আদালতের একজন আইনজীবী ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

স্বজন ও পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নাঈম কিবরিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম গোলাম কিবরিয়া। পেশাগত কারণে তিনি নিয়মিত পাবনা জেলা জজ আদালতে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন।

নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নাঈম কিবরিয়া মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। তিনি যে প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন, সেটিও হামলাকারীরা ভাঙচুর করেছে। তার দাবি, কোনো পূর্বশত্রুতা ছাড়াই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ভাটারা থানার এসআই আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন, গতকাল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নাঈম কিবরিয়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি প্রাইভেট কার চালাচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁর গাড়ির ধাক্কা লাগে। এরপর মোটরসাইকেলের চালকসহ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

একপর্যায়ে তারা নাঈমকে প্রাইভেট কার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আনেন। এরপর রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে খবর পেয়ে তাঁর খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি নাঈমকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈম কিবরিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নাঈম পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। প্রায় ১০ দিন আগে তিনি পাবনা থেকে ঢাকায় আসেন এবং পূর্বাচলে তাঁর বাসায় ওঠেন।

রফিকুল জানান, পাবনায় ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় নাঈম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

ঘটনার রাতে নাঈম তাঁর এক বন্ধুর প্রাইভেট কার নিয়ে বাইরে বের হয়েছিলেন। পরে তাঁর মুঠোফোনে কল দিলে বসুন্ধরা এলাকার এক নিরাপত্তাকর্মী ফোনটি ধরেন। ওই নিরাপত্তাকর্মী জানান, নাঈমকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর দ্রুত গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর