ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু সোমবার: মীর শাহে আলম দিল্লিতে আজ ইন্ডিয়া জোটের মেগা সমাবেশ, জমায়েত হতে পারে লাখো মানুষ ট্রাম্পের হুমকির মুখে সেনা কমান্ডারদের বড় নির্দেশ মোজতবা খামেনির তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করল সরকার টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে রণক্ষেত্র মিরপুর, চরম উত্তেজনা ধানখেতে মিললো অজ্ঞাতনামা নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে জার্মানিতে জেন জি’র তীব্র বিক্ষোভ কালিয়াকৈরে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনের মতো মিরপুরে সড়ক অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল সাইবার হামলার শিকার ডিএমপি নিউজ, ওয়েবসাইটে আপত্তিকর বার্তা

নোবেলের জন্য মাচাদোকে ‘সাইড’ করার কথা অস্বীকার ট্রাম্পের


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:০৭ পিএম

নোবেল শান্তি পুরস্কারকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্ট দাবি করে, নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করায় মাচাদোকে ট্রাম্প কার্যত ‘সাইড’ করে দিয়েছেন। তবে এই অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেছেন, মাচাদোর নোবেল জয় তার ভেনেজুয়েলা নীতি বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নয়। যদিও একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “মাচাদোর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত হয়নি।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর মাচাদোর প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাব বদলে যায়। প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তার বরাতে দাবি করা হয়, ট্রাম্প মনে করতেন নোবেল শান্তি পুরস্কার মূলত তারই প্রাপ্য ছিল। ওই কর্মকর্তা বলেন, “যদি মাচাদো নোবেল পুরস্কার গ্রহণ না করে বলতেন যে এটি ট্রাম্পের প্রাপ্য, তাহলে আজ তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতেন।” ওই কর্মকর্তা মাচাদোর পুরস্কার গ্রহণকে ‘পাপ’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

তবে এই বক্তব্য নিয়ে ট্রাম্প নিজে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষায়, “মাচাদোর নোবেল জয় আমার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেনি। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। গত বছর তিনি একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা বিবেচনায় নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য তিনিই সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পুরস্কার দেওয়া হয় ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে। এরপর থেকেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে দাবি বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

এই ঘটনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় নাটকীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গত শনিবার মধ্যরাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স। এই অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো। সেখানে তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা গ্রহণের জন্য তারা প্রস্তুত। তার ওই পোস্ট আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই ধারণা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেলে মাচাদো শিগগিরই ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে আসতে পারেন।

কিন্তু সেই প্রত্যাশায় কার্যত পানি ঢেলে দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনার দিনই এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মাচাদোর পক্ষে ভেনেজুয়েলা শাসন করা সম্ভব নয়। ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলার ভেতরে তার পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই। দেশটির মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করে না। নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সক্ষমতাও তার নেই।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায়, নোবেল পুরস্কার জিতলেও ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় বসার ক্ষেত্রে মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন না। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ভেনেজুয়েলা নিয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্তে মাচাদোর ভূমিকা নিয়ে বিভক্তি রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নোবেল শান্তি পুরস্কারকে ঘিরে ব্যক্তিগত হতাশা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই ট্রাম্পের অবস্থান তৈরি হয়েছে। তিনি একদিকে মাচাদোকে সরাসরি ‘সাইড’ করার অভিযোগ অস্বীকার করছেন, অন্যদিকে তার নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন।

এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। মাদুরোর পতনের পর ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলেও, সেই শূন্যতা কে পূরণ করবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। নোবেল জয়ী একজন নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও মারিয়া কোরিনা মাচাদোর পথ যে মোটেও সহজ নয়, ট্রাম্পের বক্তব্যে সেটাই স্পষ্ট হয়েছে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, এনবিসি নিউজ


এ সম্পর্কিত আরো খবর