সিলেট থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে এক যাত্রীর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পাইলট তদন্তের মুখে পড়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ৩১ ডিসেম্বর বিজি ২০১ ফ্লাইটে। পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন আলিয়া মান্নান। উড্ডয়নের পর বিমানটি যখন পাকিস্তানের লাহোরের কাছাকাছি অবস্থান করছিল, তখন একজন যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে পাইলট নিকটবর্তী কোনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ না করে ফ্লাইটটি পুনরায় ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে কেন কাছের বিমানবন্দরে অবতরণ করা হলো না এবং ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না। বিমান কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে 'মেডিকেল ইমার্জেন্সি'র সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় তা অনুসরণ করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
এর আগে ২০২৩ সালে বিমানের একটি লন্ডন ফ্লাইটেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তখনও যাত্রী অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও পাইলট সরাসরি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিলেন।
বিমানের ভেতরের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, অনেক সময় অসুস্থ বা অতি বৃদ্ধ যাত্রীরা বিমানে ওঠার সময় তাদের শারীরিক সমস্যার কথা লুকিয়ে রাখেন। অথবা গ্রাউন্ড স্টাফদের সহায়তায় দীর্ঘ ফ্লাইটে ওঠেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় বায়ুর চাপের পরিবর্তন এবং দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল অনেক সময় বয়স্ক বা অসুস্থ রোগীরা সহ্য করতে পারেন না, যা প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে গভীর রাতের ফ্লাইটে ঘুমের অভাব এবং জেট ল্যাগের সমস্যা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। বিমান কর্তৃপক্ষ সবসময় যাত্রীদের অনুরোধ জানায় যে তারা অসুস্থতার তথ্য গোপন করবেন না। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
এই ঘটনায় এয়ারলাইন্স এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছেন যে ভবিষ্যতে মেডিকেল ইমার্জেন্সি সংক্রান্ত সব নিয়ম আরও কঠোরভাবে মানা হবে এবং ফ্লাইট পরিচালনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে। যাত্রীদের সুরক্ষা ও জীবন রক্ষা সব সময় বিমান চলাচলের মূল অগ্রাধিকার হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।