ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৪ কোটি তরুণ ভোটার, নির্বাচনের ‘কিংমেকার’


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১:১৬ পিএম

আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে মূল নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন দেশের তরুণ ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি। বিশাল এই জনশক্তি আগামী দিনের রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত এবং সচেতন এই প্রজন্ম প্রার্থীদের যোগ্যতা ও কর্মপরিকল্পনা যাচাই-বাছাইয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দেবে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে এই প্রভাব অপরিসীম হবে।

নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ভোটার তালিকা থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের মোট ভোটারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ অংশগ্রহণকারী। জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নাগরিক যুব হিসেবে সংজ্ঞায়িত। তবে নির্বাচন কমিশনের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩৩ বছর বয়স পর্যন্ত ভোটারদের তরুণ হিসেবে গণনা করা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রজন্ম শুধু সংখ্যায় নয়, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা, চিন্তাভাবনা ও সামাজিক সচেতনতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। শহর-গ্রামের সর্বত্র তারা কার্যকর প্রভাব রাখতে সক্ষম। তরুণ ভোটাররা মূলত কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা, সুশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ওপর জোর দিচ্ছেন। ডিজিটাল প্রজন্ম হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় তারা প্রচারণা, গণমাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভোটারদের মতামত বিনিময় করছেন।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ ড. মো. শাহজাহান বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান জনতাত্ত্বিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়— এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররাই প্রকৃত ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন। মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। এই বিশাল জনশক্তি যেকোনো রাজনৈতিক দলের ভাগ্য বদলে দিতে সক্ষম।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৮। ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সীর সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ১০৬। ২৬ থেকে ২৯ বছরের ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ এবং ৩০ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৫। এই চার ভাগের মিলিত সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ২৬-২৯ বছরের মধ্যে। এরপরেই ২২-২৫ বছরের ভোটারের সংখ্যা। নতুন ভোটারদের মধ্যে দেশব্যাপী পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখা যাচ্ছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতার চাহিদা, কর্মসংস্থান, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার দিকে মনোযোগ বিশেষভাবে বেশি।

এই বিশাল তরুণ ভোটারশক্তি যদি ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, তবে যেকোনো দলের জয়-পরাজয়ে তাদের ভূমিকা সবচেয়ে বড়। রাজনৈতিক দলগুলোও এই পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচনী ইশতেহার ও কর্মসূচিতে তরুণদের প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখন তাদের ইশতেহারে প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, শিক্ষার সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বচ্ছতার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করছে।

বয়সভিত্তিক নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সী ও প্রবীণ ভোটারদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। ৩৪-৩৭ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ২৩ লাখ ৬ হাজার ৭৫৫, ৩৮-৪১ বছরে ১ কোটি ৩০ লাখ ২৬ হাজার ৪৫০, ৪২-৪৫ বছরে ১ কোটি ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৪২, ৪৬-৪৯ বছরে ৯২ লাখ ৩৯ হাজার ৭২৩, ৫০-৫৩ বছরে ৮০ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬০, ৫৪-৫৭ বছরে ৬৩ লাখ ৪২ হাজার ২৮, ৫৮-৬০ বছরে ৫১ লাখ ৮১ হাজার ১০৩ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সের ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯৪।

অঞ্চলভিত্তিক ভোটার বণ্টন দেখলে দেখা যায়, ঢাকার ভোটার সংখ্যা শীর্ষে— ১ কোটি ৮৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬৫। রাজশাহী অঞ্চলে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮০, ময়মনসিংহে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯ হাজার ২৭১, কুমিল্লা ১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৮ হাজার ৫০, খুলনা ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৫ হাজার ৬১০, রংপুর ১ কোটি ৪১ লাখ ৮৪ হাজার ১২২, চট্টগ্রাম ৯৯ লাখ ১১ হাজার ৩২০, সিলেট ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২২, বরিশাল ৭৯ লাখ ৮১ হাজার ১২৭ এবং ফরিদপুর ৬১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২৬।

ড. শাহজাহান আরও বলেন, ঢাকা অঞ্চলের প্রায় দুই কোটি ভোটার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এই ভোটাররা সাধারণত জাতীয় ইস্যুগুলোর ওপর সংবেদনশীল। ফরিদপুরের মতো ছোট অঞ্চলেও ভোটের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ভোটারদের উচ্ছ্বাস এবং প্রবীণ ভোটারদের অভিজ্ঞতার মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করতে পারা কোনো দলের সাফল্যের চাবিকাঠি।

এ নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রযুক্তি-সচেতন তরুণরা শুধু মাঠের প্রচারণা নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রার্থীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে প্রতিটি দলকে ডিজিটাল মিডিয়া ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের আকর্ষণ করতে হবে। তরুণদের মনস্তত্ত্ব বোঝা এবং তাদের ভাষায় কথা বলা প্রার্থীরাই ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণ করবেন।

এভাবে, দেশের নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সাড়ে চার কোটি তরুণ ভোটারের সিদ্ধান্তের ওপর। এই বিশাল ভোটারশক্তি যেকোনো দলের নির্বাচনী ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট। তাদের প্রাধান্য অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর