দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন নেই, আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতিই যথেষ্ট — হাইকোর্টের রায়
দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগবে না, বরং ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি থাকলেই বিষয় নিষ্পন্ন হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মানসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের রায়ে বলা হয়, প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতা আইনত নেই।
রিটের শুনানি শেষে আদালত রুল খারিজ করে এই আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের জন্য আরবিট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অনুমতি প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তা বৈধ নয় বলে তারা চ্যালেঞ্জ করেছিল। আদালত শেষ পর্যন্ত রুল বাতিল করে দিয়েছে, তবে আপিল করার প্রস্তুতি চলছে।
ইশরাত হাসান বলেন, পবিত্র কোরানে চারটি বিয়ে পর্যন্ত করার বিধান থাকলেও সমতার শর্ত রয়েছে। অধিকাংশ পুরুষ সেই সমতা রক্ষা করতে পারে না এবং অনেক সময় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানদের কাছে টাকা দিয়ে অনুমতি নেওয়া হয়। এ কারণে ৬ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ড ছিল, যা ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের মাধ্যমে বদলে গেছে। বর্তমানে অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রয়েছে।
হাইকোর্ট আরো উল্লেখ করেছে, বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করা হলেও সরকার এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। আদালত বলেছে, সরকার যদি ইসলামী আইনের আলোকে বহুবিবাহ অনুমোদন বা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
রায়ে বলা হয়েছে, ৬ ধারার বিধান বৈষম্যমূলক নয়, এটি পুরুষ ও নারীর অধিকার হ্রাস করে না এবং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত পক্ষগুলোর ওপর চাপানো হয় না। এছাড়া ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংবিধানের অধীনে এটি গ্রহণযোগ্য।
আদালত বলেন, বহুবিবাহের কারণে নারীর অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে বলে প্রমাণ নেই। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের সুপারিশ বাতিল করেছে এবং বলেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ব্যক্তিগত জীবনে সংবিধানের অধীনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।
শেষে আদালত মন্তব্য করেছে, ৬ ধারায় বহুবিবাহ বৈধ এবং এটি নারীর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে না। তাই ৬ ধারা অব্যাহত থাকবে।