ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সোনালী যুগের অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই


  • আপলোড সময় : বুধবার ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ২:৩৪ পিএম

বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮২ বছর। তাঁর মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। তিনি জানান, জাভেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং আজ চিরবিদায় নিয়ে আমাদের মাঝে নেই। সবাই জাভেদ ভাইয়ের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করবেন।

জানা গেছে, জাভেদ ক্যান্সার এবং বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সম্প্রতি তাকে বাসায় আনা হয়। আজ সকাল ১১টার সময় থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে উত্তরার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’-র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় জাভেদের। এই সিনেমা ১৯৬৪ সালে মুক্তি পায়। তবে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে, যেখানে নায়িকার ভূমিকায় ছিলেন শাবানা। অভিনয় জীবনে তিনি প্রায় দুই শতাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন এবং নব্বই দশক পর্যন্ত বাংলা সিনেমার সুবর্ণ সময়ে সক্রিয় ছিলেন।

জাভেদের অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে– ‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহজাদী’, ‘নিশান’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রভান’, ‘কাজল রেখা’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘নরম গরম’, ‘তিন বাহাদুর’, ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’, ‘আজো ভুলিনি’, ‘চোরের রাজা’ এবং ‘জালিম রাজকন্যা’। এই সিনেমাগুলো তাঁকে দর্শকপ্রিয় করে তোলে এবং বাংলা সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ স্থান নিশ্চিত করে।

জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে সপরিবারে তিনি পাঞ্জাবে চলে আসেন। ব্যক্তিজীবনে ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে করেন। তার ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত অর্জন একসঙ্গে তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।

জাভেদের মৃত্যুর খবরে চলচ্চিত্র জগত, ভক্ত এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর দীর্ঘ এবং ফলপ্রসূ অভিনয় জীবন প্রজন্মের প্রজন্মের দর্শকের মনে অম্লান হয়ে থাকবে। শিল্পী হিসেবে তাঁর অবদান শুধু সিনেমা জগতে নয়, বাংলাভাষা চলচ্চিত্রের মান ও ঐতিহ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইলিয়াস জাভেদ শুধু একজন প্রতিভাবান অভিনেতা ছিলেন না, বরং তিনি বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের একটি জীবন্ত প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। তাঁর অভিনীত সিনেমাগুলো এখনও দর্শক হৃদয়ে জীবন্ত এবং বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর