বিনোদন ডেস্ক
বর্তমান সময়ে শোবিজ তারকাদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া বুলিং এবং ট্রোলিং। এতদিন এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চললেও এবার সরাসরি কথা বলেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও তৈরি এবং গুজব ছড়ানোর প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বুবলী বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় বুলিং ও ট্রোলিং এত বেড়ে গেছে যে তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাংবাদিক ভাই-বোন এবং আমার অনেক সহকর্মী বারবার আমাকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এতদিন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতাম, কিন্তু চুপ থাকলে মানুষ আরও বেশি গুজব ছড়ানোর সুযোগ পায়।”
বুবলী উল্লেখ করেন, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভিউ’ বা দর্শকসংখ্যা অর্থে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। নেগেটিভ কনটেন্ট বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে বেশি ভিউ পাওয়া যায়। “এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আজেবাজে ভিডিও বানিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা আমাদের শিল্পীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে,” বলেন এই অভিনেত্রী।
তিনি সবচেয়ে অবাক হয়েছেন নারীদের দ্বারা নারীদের আক্রমণের ক্ষেত্রে। বুবলী বলেন, “আমার কাছে খুব দুঃখজনক যে মেয়েরাই মেয়েদের সবচেয়ে বেশি ট্রোল করে। এটা নৈতিকভাবে ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।”
শিল্পীদের ক্ষতিপূরণ ও মর্যাদা রক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বুবলী বলেন, বিদেশে বসে দেশের শিল্পীদের হেয় প্রতিপন্ন করার বিষয়টিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। “শিল্পীদের ছোট করা মানে দেশের সংস্কৃতিকে ছোট করা। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়,” তিনি যোগ করেন।
বাংলাদেশের প্রচলিত সাইবার ক্রাইম আইনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বুবলী বলেন, “এবার আমি দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছি। যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া ভিডিও তৈরি করে বা মিথ্যা গুজব ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচকতা কেবল তার নিজের নয়, বরং শিল্পী সমাজের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণা শিল্পীদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই শিল্পী হিসেবে নিজের মর্যাদা রক্ষা করা এবং নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বুবলী আশা প্রকাশ করেন, তার এই সতর্কবাণী সামাজিক মিডিয়ার ব্যবহারকারীদের সচেতন করবে এবং অনলাইন ট্রোলিং ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা কমবে। তিনি মনে করেন, দেশের শিল্পীরা সম্মান ও নিরাপত্তা পাবার অধিকার রাখে, যা সামাজিক ও আইনিভাবে সুরক্ষিত হওয়া উচিত।
এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিল্পীদের বিরুদ্ধে প্রচারিত গুজবের বিরূপ প্রভাব কমাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও আরও সক্রিয় হতে হবে। শিল্পীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মিথ্যা কনটেন্টের দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
আকাশজমিন / আরআর