অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানীর চানখাঁরপুলে হত্যাযজ্ঞ চালানোর মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে দেওয়া রায় প্রত্যাখ্যান করেছে ১০১টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করা প্লাটফর্ম জুলাই ঐক্যের সহযোগী সংগঠন।
জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের পলাতক মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও ফাঁসির আসামি শেখ হাসিনার নির্দেশে লং মার্চ প্রতিহত করতে তৎকালীন এডিসি আখতারুল ইসলাম বিপুর নেতৃত্বে একটি টিম চানখাঁরপুল মোড়ে অবস্থান নেয়। কোনো ধরনের প্ররোচনা ছাড়াই উপস্থিত জনতার ওপর চাইনিজ রাইফেল থেকে গুলি চালাতে থাকে কনস্টেবল সুজনসহ তিনজন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম প্রত্যেক আসামিকে সরাসরি হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। কনস্টেবল সুজনের পক্ষে তার আইনজীবী কোনো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঘোষিত রায়ে উর্ধ্বতন তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং কেবল কনস্টেবল সুজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, বাকি দুই কনস্টেবলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই রায় আমাদের গভীরভাবে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।’
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ‘কনস্টেবল সুজনের গুলিতে যখন একের পর এক মানুষ নিহত হচ্ছিল, তখন তিনি উল্লাস করছিলেন। তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি না দেওয়া এক ধরনের প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়। এই রায় পুনর্বিবেচনা না করা হলে কঠোর থেকে কঠোরতম আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। শহিদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি আমরা কখনোই বরদাশত করবো না। কর্তৃপক্ষ যদি রায় পুনর্বিবেচনা না করে, তবে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।’
বিবৃতিতে জারি করা যৌথ বিবৃতিতে ১০১টি সহযোগী সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আপ বাংলাদেশ, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই রেভলুশনারি অ্যালায়েন্স, পুনাব, পুশাব, নেক্সাস ডিফেন্স, জাগ্রত জুলাই, জুলাই মঞ্চ, বাংলাদেশ কওমি ছাত্রসংগঠন (কছাস), জুলাই ছাত্র জনতা সংসদ, বাংলাদেশের কারিগরি ছাত্র পরিষদ, জেন-জি স্টুডেন্ট ইউনিটি, জুলাই সাংস্কৃতিক সংসদ, রোটার্যাক্ট ক্লাব অব ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক, ঢাকা কলেজ, রাইজিং ইয়থ রামপুরা, পিপলস রিফর্ম অ্যালায়েন্স, একতার বাংলাদেশ, জুলাই বিপ্লবী যুব সংগঠন, ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম, জুলাই চেতনা, জুলাই সংগ্রাম পরিষদ, বি আই ই ডি স্পোর্টস ক্লাব, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র জনতা মঞ্চ, কাজির খাল সুপার স্টার ক্লাব, সানরাইজ স্পোর্টিং ক্লাব ইত্যাদি।
এ ছাড়া আরও বহু সংগঠন যেমন: বাংলাদেশ সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই, ইয়থ ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসেস, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ইসলামিক সোস্যাইটি, হিউম্যান রাইটস সোসাইটি, পল্টন সাহিত্য ফোরাম, ইসলামিক কমিউনিটি বাংলাদেশ, দ্য স্কলারস ফাউন্ডেশন, ঢাকা কলেজ ভলান্টিয়ার্স ফোরাম, শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, ইত্যাদি এই যৌথ বিবৃতিতে অংশগ্রহণ করেছে।
সংগঠনগুলো রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সতর্ক করেছেন, যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে তারা শহিদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি মেনে নেবেন না এবং কঠোর আন্দোলনে যাবে।
আকাশজমিন / আরআর