অনলাইন রিপোর্টার
নির্বাচনকালীন সময়ে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। এই রিট পরীক্ষার্থীদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব দায়ের করেছেন।
আগামী ৩০ জানুয়ারি ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রগুলোতে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষার হল, আসন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা যথাসময়ে কমিশনের ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে (http://bpsc.teletalk.com.bd) প্রকাশ করা হবে।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর পিএসসির ওয়েবসাইটে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এরপর ৪ ডিসেম্বর আবেদন শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। পরীক্ষার্থীরা এখন এই রিটের মাধ্যমে নির্বাচনের সময়সূচির সঙ্গে পরীক্ষা সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা করছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রিট দায়েরের বিষয়টি অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনকালীন সময়ে অনেক পরীক্ষার্থী প্রার্থীতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবেন। তাই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত করা জরুরি।”
পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা জানান, নির্বাচন এবং পরীক্ষা একসঙ্গে হলে মনোযোগ বিভ্রান্ত হয় এবং প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়ে।
পিএসসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা স্থগিত করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। হাইকোর্টের রিটের পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই পরীক্ষা প্রিলিমিনারি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং পিএসসির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীরা মুল পরীক্ষা বা মেইন পরীক্ষায় অংশ নেবেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল পরীক্ষার জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
পরীক্ষার্থীরা আশা করছেন, হাইকোর্টের রিটের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাগত এবং নির্বাচনী অগ্রাধিকার উভয়ই নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি তারা সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রকাশ পেলে পরীক্ষা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। পরীক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যে কোনো আপডেটের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
এই পরীক্ষার আয়োজন এবং তার সঙ্গে নির্বাচনের সম্ভাব্য সংঘর্ষ নিয়ে সরকারি ও পরীক্ষার্থী উভয় পক্ষই সতর্ক রয়েছেন। পরীক্ষা ও নির্বাচন উভয়ই দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণপ্রক্রিয়া হওয়ায় প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে কোনো সমস্যা যেন না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর