ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

অসহায় মানুষের পাশে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৯:৪০ পিএম

একদিকে মেয়ের বিয়ের আয়োজন থমকে যাওয়া এক অসহায় মা, অন্যদিকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শয্যাশায়ী এক দিনমজুর—ভিন্ন দুই জীবনের গল্প হলেও সংকটে তাদের ভরসার জায়গা একটাই। মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার সিএন্ডবি এলাকার বাসিন্দা নাছিমা বেগম নিজেই অসুস্থ। তাঁর স্বামী আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। চার মেয়ের সংসারে তিন মেয়ের বিয়ে কোনোভাবে সম্পন্ন হলেও ছোট মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করতে গিয়ে চরম অসহায়ত্বে পড়েন তিনি। ধার-দেনা করেও প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল নাছিমা বেগমের।

শেষ ভরসা হিসেবে আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে তার কষ্টের কথা তুলে ধরেন। বিষয়টি শোনার পর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা তাৎক্ষণিকভাবে এককালীন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন। এই সহায়তা পেয়ে নতুন করে সাহস ফিরে পান নাছিমা বেগম। তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের পাশে দাঁড়ানোয় মেয়ের বিয়ের আয়োজন আবারও শুরু করতে পারছেন তিনি।

নাছিমা বেগম বলেন, “মেয়ের বিয়ের দিন ঠিক হলেও টাকার অভাবে সব থেমে যাচ্ছিল। ডিসি স্যারের সাহায্য না পেলে কী করতাম জানি না।”

অন্যদিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মৈশামুড়া এলাকার দিনমজুর মোহাম্মদ ফরিদ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ফরিদ বাকশক্তিও হারিয়েছেন। একসময় দিনমজুরি করে চার সন্তানের সংসার চালালেও ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি ধার-দেনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

ফরিদের স্ত্রী খালেদা বেগম জানান, স্বামীর চিকিৎসা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। জেলা প্রশাসকের সহায়তা পাওয়ায় তারা আবারও বেঁচে থাকার আশা খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার স্বামী কিছুই করতে পারে না। সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। জেলা প্রশাসক স্যারের সহায়তাই এখন আমাদের বাঁচার ভরসা।”

ফরিদের মেয়ে ইসরাত আরা বলেন, “আব্বার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। স্যারের সাহায্যে আমরা আবার আশা পেলাম। ডিসি স্যার আসলেই একজন মানবিক ডিসি।”

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা একাধিক অসহায় মানুষ ও চট্টগ্রামের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সামাজিক সংগঠনের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট শোনার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

ব্যস্ত প্রশাসনিক দায়িত্বের মাঝেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে বলে মত দিয়েছেন সহায়তা পাওয়া নাগরিকরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর