শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নাহিদ ইসলামের পক্ষে দায়ের করা আপিল আবেদনের বিষয়টি তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে এবং আগামীকাল চেম্বার বিচারপতির আদালতে এই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা–১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু এবং অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। অন্যদিকে ড. এম এ কাইয়ুমের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান এবং ব্যারিস্টার কাজী আক্তার হোসেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা–১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন নাহিদ ইসলাম। রিটে ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে আবেদন জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ড. এম এ কাইয়ুম মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করেননি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার প্রার্থিতা আইনসম্মত নয় দাবি করে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে নির্বাচন কমিশন ঢাকা–১১ আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম—উভয়ের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করে।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা–১১ আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও আলোচনায় এসেছে। এখন আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা।
আকাশজমিন / আরআর