ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার জন্য তেহরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার এ মন্তব্য করেন ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি।
তেহরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ এসলামি বলেন, এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নির্ভর করবে বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, তার ওপর। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানাননি, নিষেধাজ্ঞা বলতে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নাকি অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরেনিয়াম পাতলা করার অর্থ হলো অন্য উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনা, যাতে চূড়ান্ত পণ্যের সমৃদ্ধির হার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে। পারমাণবিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এই সীমা নির্ধারণ করা হয়।
গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছিল। এই মাত্রা ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে অনুমোদিত ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ সীমার তুলনায় অনেক বেশি। পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে, এত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে।
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে যে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, ইরানই বর্তমানে একমাত্র অ-পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র, যারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। সংস্থাটির মতে, এই মাত্রার সমৃদ্ধকরণ আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বর্তমানে কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি। জাতিসংঘের পরিদর্শকরা সর্বশেষ গত বছরের ১০ জুন ইরানের ওই ইউরেনিয়ামের অবস্থান নথিভুক্ত করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ওই পরিমাণ মজুত ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধির হার যদি ৯০ শতাংশে পৌঁছে যায়, তাহলে ইরান ৯টির বেশি পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম হবে। এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) বিধান অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে। এই চুক্তিতে ইরানসহ বিশ্বের প্রায় ১৯০টি দেশ স্বাক্ষরকারী হলেও পরবর্তীতে চুক্তিটি কার্যত বাতিল হয়ে যায়।
সূত্র: এএফপি।
আকাশজমিন / আরআর