ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

জামানত হারালেও মেয়র প্রার্থীর পথে মেঘনা আলম


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:৩৩ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে গেলেও রাজনীতির ময়দান ছাড়ছেন না দেশের আলোচিত মডেল মেঘনা আলম। ঢাকা-৮ আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে ৬০৮ ভোট পান তিনি। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানতও হারান। তবে এই হারের মধ্যেও থেমে থাকেননি মেঘনা আলম।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে মেঘনা আলম ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তিনি লড়বেন। তিনি বলেন, “এটি শেষ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক যাত্রার শুরু। আমি ১১ বছর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছি। জাতীয় রাজনীতিতে আমার অভিষেক হয়েছে ত্রয়োদশ নির্বাচনের মাধ্যমে। এবার মেয়র নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”

মেঘনা আলমের প্রচারণা অনন্য। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রচারণায় কোনো বিলবোর্ড, বড় ক্যাম্প বা ব্যয়বহুল প্রচারণা ছিল না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মবহির্ভূত প্রচারও করেননি। মাত্র তিন দিন এলাকায় হেঁটে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে মতবিনিময় করেছেন।

তার ভাষ্য, “এই ৬০৮ ভোট এসেছে সততা থেকে এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থেকে। অন্যরা মাসের পর মাস প্রচারণা চালিয়েও যে স্বীকৃতি পান না, আমি তা সীমিত সময় ও শূন্য খরচে পেয়েছি। সময় ও অর্থ পেলে ৬০৮ ভোট হয়তো ৬০ হাজারেও পৌঁছাত।”

মেঘনা আরও জানান, তার দল গণঅধিকার পরিষদ বিএনপির সঙ্গে সমন্বয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি বিএনপির পোলিং এজেন্ট সহায়তা নেননি, যাতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় থাকে। তিনি মনে করেন, রাজনীতি শুধুমাত্র অর্থ বা আড়ম্বরের খেলা নয়, বরং এটি সাহস, মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার বিষয়।

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “যে নারী ভয় পেয়ে দমে যায় না, তাকে থামানো যায় না। আমি বিশ্বাস করি, একদিন শহর, হয়তো পুরো দেশও বদলে যেতে পারে। নির্বাচনে হার আমাদের থামাতে পারবে না, বরং আরও শক্তিশালী করে তুলবে।”

মেঘনা আলমের এই ঘোষণা রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি দেখিয়েছেন, স্বল্প সময়ে ও সীমিত সম্পদে ওজনদার প্রার্থী হতে হলে প্রচারণা কৌশল, সরাসরি জনগণের সঙ্গে সংযোগ এবং সততার গুরুত্ব অপরিসীম।

মেয়র নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়া মেঘনা আলমের পরিকল্পনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই গুরুত্বসহকারে দেখছেন। নির্বাচনী মাঠে তাঁর সরাসরি সংযোগমূলক প্রচারণা নতুন ধরনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এবারের ঘোষণা স্পষ্ট করে দিয়েছে, মেঘনা আলম রাজনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন এবং নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে দৃঢ় ভূমিকা রাখবেন। তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নির্ভীকতা নতুন প্রজন্মের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর