ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

জামানত হারালেও মেয়র প্রার্থীর পথে মেঘনা আলম


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:৩৩ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে গেলেও রাজনীতির ময়দান ছাড়ছেন না দেশের আলোচিত মডেল মেঘনা আলম। ঢাকা-৮ আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে ৬০৮ ভোট পান তিনি। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানতও হারান। তবে এই হারের মধ্যেও থেমে থাকেননি মেঘনা আলম।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে মেঘনা আলম ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তিনি লড়বেন। তিনি বলেন, “এটি শেষ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক যাত্রার শুরু। আমি ১১ বছর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছি। জাতীয় রাজনীতিতে আমার অভিষেক হয়েছে ত্রয়োদশ নির্বাচনের মাধ্যমে। এবার মেয়র নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”

মেঘনা আলমের প্রচারণা অনন্য। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রচারণায় কোনো বিলবোর্ড, বড় ক্যাম্প বা ব্যয়বহুল প্রচারণা ছিল না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মবহির্ভূত প্রচারও করেননি। মাত্র তিন দিন এলাকায় হেঁটে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে মতবিনিময় করেছেন।

তার ভাষ্য, “এই ৬০৮ ভোট এসেছে সততা থেকে এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থেকে। অন্যরা মাসের পর মাস প্রচারণা চালিয়েও যে স্বীকৃতি পান না, আমি তা সীমিত সময় ও শূন্য খরচে পেয়েছি। সময় ও অর্থ পেলে ৬০৮ ভোট হয়তো ৬০ হাজারেও পৌঁছাত।”

মেঘনা আরও জানান, তার দল গণঅধিকার পরিষদ বিএনপির সঙ্গে সমন্বয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি বিএনপির পোলিং এজেন্ট সহায়তা নেননি, যাতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় থাকে। তিনি মনে করেন, রাজনীতি শুধুমাত্র অর্থ বা আড়ম্বরের খেলা নয়, বরং এটি সাহস, মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার বিষয়।

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “যে নারী ভয় পেয়ে দমে যায় না, তাকে থামানো যায় না। আমি বিশ্বাস করি, একদিন শহর, হয়তো পুরো দেশও বদলে যেতে পারে। নির্বাচনে হার আমাদের থামাতে পারবে না, বরং আরও শক্তিশালী করে তুলবে।”

মেঘনা আলমের এই ঘোষণা রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি দেখিয়েছেন, স্বল্প সময়ে ও সীমিত সম্পদে ওজনদার প্রার্থী হতে হলে প্রচারণা কৌশল, সরাসরি জনগণের সঙ্গে সংযোগ এবং সততার গুরুত্ব অপরিসীম।

মেয়র নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়া মেঘনা আলমের পরিকল্পনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই গুরুত্বসহকারে দেখছেন। নির্বাচনী মাঠে তাঁর সরাসরি সংযোগমূলক প্রচারণা নতুন ধরনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এবারের ঘোষণা স্পষ্ট করে দিয়েছে, মেঘনা আলম রাজনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন এবং নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে দৃঢ় ভূমিকা রাখবেন। তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নির্ভীকতা নতুন প্রজন্মের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর