শেরপুরের সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকার ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, শেরপুরের ঝিনাইগাতীর হলদীগ্রাম দিয়ে চোরাকারবারিরা অভিনব কৌশলে ভারতীয় পণ্য ওষুধ পাচারের চেষ্টা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে বিজিবির একটি টহল দল বিপুল পরিমাণ ভারতীয় টেপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করে। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কারবারিরা পাহাড়ে পালিয়ে যায়। জব্দকৃত ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ১২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজিদ বলেন, ৩৯ বিজিবি সীমান্ত রক্ষা এবং যেকোনো প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য সচেষ্ট। ভারতীয় ওষুধ ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য পাচার রুখতে নিয়মিত টহল অভিযান চালানো হচ্ছে।”
শেরপুরের সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের অভিযান নতুন নয়। বিজিবি প্রতি মাসেই সীমান্তবর্তী এলাকা ও স্থাপনায় নজরদারি বাড়িয়ে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্থানীয় প্রশাসনও বিজিবি অভিযানকে সমর্থন জানায় এবং নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানায়।
চোরাকারবারিরা সাধারণত ভারতীয় সীমান্তের কাছে অবৈধভাবে ওষুধ, খাবার এবং অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে এই ধরনের অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। শেরপুরের সীমান্ত এলাকায় এমন অভিযান স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজিদ বলেন, “আমরা সীমান্তে নিয়মিত টহল চালিয়ে যেকোনো প্রকার চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করছি। সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পালন করি।”
উল্লেখ্য, ভারতীয় ওষুধের এই ধরনের অবৈধ প্রবেশ কেবল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে না, বরং দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। এজন্য সীমান্তে কঠোর নজরদারি এবং টহল অভিযান অপরিহার্য। ৩৯ বিজিবির উদ্যোগে এই ধরনের অভিযান দেশের সুরক্ষা ও আইনি বিধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।
আকাশজমিন / আরআর