অনলাইন রিপোর্টার
পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। সরবরাহ সংকট ও চাহিদার কারণে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে দাম বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। ক্রেতারা নিত্যপণ্যের এই উর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানমন্ডি কাঁচাবাজার ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আকারে ছোট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়, তবে ভালো মানের পেঁয়াজ কোথাও ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ ক্রেতারা চরম চাপের মুখে পড়েছেন। অনেক ক্রেতা জানান, রমজানের শুরুতেই তারা বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
খুচরা বিক্রেতা হাসান মাহমুদ বলেন, “গত দুই-তিন দিন ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। মৌসুমের শেষ দিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়তি। রমজানকে কেন্দ্র করে পাইকারি পর্যায়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বিক্রেতারাও বাধ্য হয়ে দাম বাড়াচ্ছেন। “আগের তুলনায় মোকামে পেঁয়াজের দাম একাধিকবার বেড়েছে। তাই খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় ছাড়া বিকল্প নেই।”
ক্রেতা মারুফ হোসেন বলেন, “রমজান এলেই ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের পকেট কেটে সুবিধা নেয়। গত সপ্তাহে আমি ১০০ টাকার নিচে দুই কেজি পেঁয়াজ কিনেছিলাম, আজ একই পরিমাণ কিনতে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দিতে হচ্ছে।”
রিকশাচালক মো. শুক্কুর আল আমিন বলেন, “ভ্যানগাড়ি থেকে দুই দিন আগে ৫০ টাকায় কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছিলাম। আমাদের ছোট পরিবার এই পরিমাণ পেঁয়াজ এক সপ্তাহ চলবে। এরপর দাম আরও বাড়বে, এটা তো জানা ছিল। ব্যবসায়ীরা রোজা শুরু হলেই দাম বাড়িয়ে দেয়।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরবরাহে সীমিততা এবং মৌসুমের শেষের কারণে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। রমজান মাসে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম আরও ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে অনেক ক্রেতা আশা করছেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমে আসবে। তবে এই মুহূর্তে ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণ ছাড়া তারা দাম কমাতে পারবে না।
সরকারি পর্যায়ে এই বিষয়ে নজর রাখা হলেও বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাজার পর্যবেক্ষণ এবং সরবরাহ বাড়ানো জরুরি।
ক্রেতারা আশা করছেন, ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা চাপাবে না।