আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডে একটি হাসপাতাল জাহাজ পাঠাতে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের দাবি, দ্বীপটিতে “অনেক মানুষ অসুস্থ এবং ঠিকমতো স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না।” তিনি তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টে জানিয়েছেন, এই জাহাজে চিকিৎসাসামগ্রী থাকছে এবং এটি দ্বীপের মানুষের জন্য পাঠানো হবে।
তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিয়েলসেন এই পরিকল্পনার জবাবে জানিয়েছেন, “লাগবে না, ধন্যবাদ।” তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডে সব নাগরিকের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। এমনকি প্রয়োজনে এটি দখল করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তবে জানুয়ারিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন, জোরপূর্বক দখল করবেন না। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি “ভবিষ্যৎ চুক্তির কাঠামো” তৈরি করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তখন ডেনমার্ক ও ন্যাটো মিত্ররা জানিয়েছেন, তারা গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ছাড়ার কোনো আহ্বানে সাড়া দেবে না।
গত শনিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি এবং গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক দূত জেফ ল্যান্ড্রি মিলে একটি বড় হাসপাতাল জাহাজ পাঠাচ্ছেন, যাতে সেখানে অসুস্থ ও যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়া মানুষদের যত্ন নেওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, “এটি পথে রয়েছে।” ট্রাম্পের পোস্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি জাহাজের ছবি যুক্ত করা হয়েছে, যা দেখতে ইউএসএনএস মার্সি হাসপাতাল জাহাজের মতো মনে হচ্ছে। ইউএসএনএস মার্সি হল যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী পরিচালিত দুটি হাসপাতাল জাহাজের একটি।
তবে স্পষ্ট নয়, ট্রাম্প কি সত্যিই কোনো নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠাচ্ছেন বা এ সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ আছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিয়েলসেন বলেন, “আমরা ট্রাম্পের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছি। তবে আমাদের একটি সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে নাগরিকদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়, যেখানে চিকিৎসকের কাছে যেতে হলে অর্থ খরচ করতে হয়। তিনি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা দিতে সর্বদা প্রস্তুত, তবে সরাসরি আলাপ-আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলোমেলো মন্তব্য করার পরিবর্তে আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন।”
নিয়েলসেনের এই প্রতিক্রিয়া এ কথা স্পষ্ট করে যে, গ্রিনল্যান্ডের সরকার নিজস্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আত্মনির্ভরশীল এবং বাইরের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই উত্তেজনা এমন সময়ে প্রকাশিত হলো যখন ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে আর্কটিক দ্বীপের উপর তার আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডের সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথে অটল। ট্রাম্পের ঘোষণা ও গ্রিনল্যান্ডের প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূক্ষ্মতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।