স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যশোরগামী একটি এক্সপ্রেস ট্রেন দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় রেললাইন পারাপারের মুহূর্তে মোঃ জিয়াউর রহমানকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়েন।
নিহতের সহকর্মীরা জানান, সকালে তিনি একটি খালখনন কর্মসূচির সাইড পরিদর্শন শেষে নিজ অফিসে ফিরছিলেন। কেউটখালী এলাকায় মোবাইলে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান জানান, নিহত জিয়াউর রহমান দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে শ্রীনগর উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনে তিনি আন্তরিক ও সুনামধন্য কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে কৃষি বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, নিহতের গ্রামের বাড়ি ঢাকার ধামরাইয়ে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে শ্রীনগরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পরিবার-পরিজনের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
সহকর্মীরা জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতেন মোঃ জিয়াউর রহমান। কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। তার মৃত্যুতে কৃষি বিভাগের চলমান কার্যক্রমেও সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা রেললাইন পারাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। অসাবধানতাবশত মোবাইলে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হওয়াই দুর্ঘটনার কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর