ৎক্ষমতার অপব্যবহার করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড থেকে অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পর এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড থেকে গুলশান-২ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে গ্রহণের অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, তিনি দেশত্যাগ করেছেন এবং মামলার আলামত নষ্টের চেষ্টা করছেন। এসব পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত তাকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন।
এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত টিউলিপ সিদ্দিক এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সারদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালত দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন এবং পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, দুদক গত ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিক, সারদার মোশাররফ হোসেন এবং তার সহকর্মী শাহ মো. খসরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই দখলে নেন এবং পরে সেটি নিজেদের নামে নিবন্ধন করেন।
এই মামলার প্রেক্ষাপটে দুদক আরও জানিয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক অভিযোগপত্রে উল্লেখিত কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি সম্পদের ক্ষতি করেছেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করেছেন। আদালতের রেড নোটিশ আদেশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে তার অবস্থান সনাক্তকরণ এবং গ্রেফতারের পথ সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেড নোটিশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে টিউলিপ সিদ্দিকের দেশত্যাগ রোধ করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে, তার অন্যান্য সহযোগীদের কার্যক্রমও নজরদারিতে রাখা হবে।
এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি সম্পদের অবৈধ দখল নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন আইনি বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক রেড নোটিশ জারির মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা কার্যকরভাবে রক্ষা পাবে।
বেশ কয়েকজন আইনজীবী জানিয়েছেন, দেশের আদালতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও ইন্টারপোল নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে এবং দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করবে।
আকাশজমিন / আরআর