গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত রিপন নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা এ আন্দোলন শুরু করেন।
শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল এবং বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শ্রমিকরা। তবে কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে না নেওয়ায় বুধবার দুপুর ১২টা থেকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার ফটকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত সময়ে কাজ করানো হলেও প্রতিশ্রুত নাইট বিল পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি বাৎসরিক ছুটির পাওনাও বকেয়া রয়েছে। সামনে ঈদ রমজান মাসকে সামনে রেখে পারিবারিক খরচ বাড়বে—এ কারণেই তারা দ্রুত পাওনা পরিশোধের দাবি জানাচ্ছেন।
কারখানার শ্রমিক আলম হোসেন বলেন, ঈদের আগে পরিবারের খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু মালিকপক্ষ পাওনা টাকা দিতে নানা অজুহাত দিচ্ছে। আমাদের দিয়ে রাতে কাজ করানো হয়েছে, অথচ তিন মাসের নাইট বিল এখনো দেওয়া হয়নি। বারবার বলার পরও টাকা দেওয়া হচ্ছে না। সামনে ঈদ বোনাসের সময় হলে আবার নতুন অজুহাত দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
শ্রমিকদের আরও দাবি, নিয়মিত হাজিরা ও অতিরিক্ত সময় কাজের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও বিল পরিশোধে বিলম্ব করা হচ্ছে। এতে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ বাড়িভাড়া ও বাজার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলেও জানান।
অন্যদিকে রিপন নিটওয়্যার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, যেসব শ্রমিক তিন মাসের নাইট বিল পাবেন, তাদের এক মাসের বিল আজ পরিশোধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিকরা আংশিক পরিশোধে রাজি নন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে শিল্প পুলিশ। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২, কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান বলেন, শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করছেন। আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভের কারণে কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আকাশজমিন /
আরআর