ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি ও পাল্লা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:৪৪ পিএম

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফার পারমাণবিক চুক্তি আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কী?
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো এমন রকেট-চালিত অস্ত্র যা উৎক্ষেপণের পর প্রধানত মুক্ত পতনের পথ অনুসরণ করে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে বিস্ফোরক, জৈব, রাসায়নিক অথবা পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। তেহরান অবশ্য পারমাণবিক বোমা তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ধরণ ও পাল্লা
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার রয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১,৩০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত, যা ইসরায়েলে আঘাত এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট। প্রধান ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে:

  • সেজিল (২,০০০ কিমি)

  • ইমাদ (১,৭০০ কিমি)

  • কাদির (২,০০০ কিমি)

  • শাহাব-৩ (১,৩০০ কিমি)

  • খোররামশহর (২,০০০ কিমি)

  • হুভেইজেহ (১,৩৫০ কিমি)

২০২৫ সালের এপ্রিলেও ইরানি সংবাদমাধ্যম ইসনা জানায়, ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে সেজিল ঘণ্টায় ১৭ হাজার কিমি গতিতে উড়তে পারে।

সর্বশেষ ব্যবহার ও রণকৌশল
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সেই সময় ইসরায়েল তার এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করলেও ইরানি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার দাবি করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।

ইরান বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২৩ সালে ইরান প্রথম হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে, যা শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে উড়ে, প্রতিহত করা কঠিন। এছাড়া কেএইচ-৫৫ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং পাল্লা ৩,০০০ কিমি।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার শুধু দেশীয় নিরাপত্তা নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনায় ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়টি চূড়ান্ত প্রভাব ফেলছে এবং ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর