পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বাহরাইন, কুয়েত ও আবুধাবিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একাধিক স্থানে তীব্র শব্দে বিস্ফোরণ হয়েছে এবং আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
বাহরাইন সরকার নিশ্চিত করেছে, দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিকটতম নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী। হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্বনির্ধারিত হামলা’ শুরু করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি হুমকি দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং জোমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া স্থানীয় আরও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, কেরমানশাহ, লোরেস্তান, তাবরিজ, ইসফাহান ও কারাজ নগরীতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় সেগুলো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে একের পর এক সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা