বার্তা সংস্থা Reuters জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের প্রকৃতি বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।
পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আকাশসীমা সীমিত বা বন্ধ রাখা হতে পারে।
আল জাজিরা আরবি জানিয়েছে, কুয়েতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন সক্রিয় করা হয়েছে। একই সময়ে কাতার কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে নাগরিকদের ঘরে বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে এবং সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি না যেতে পরামর্শ দিয়েছে।
বাহরাইনেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জরুরি সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। বাহরাইন সরকার নিশ্চিত করেছে যে দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা ও আকাশসীমা বন্ধের ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা এখন সময়ই নির্ধারণ করবে।