সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জীববৈচিত্র্যের অন্যতম ভান্ডার সুন্দরবন। এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের নদী-খালগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাঁকড়া জন্মায়, যা স্থানীয় হাজারো জেলের জীবিকার প্রধান উৎস। তবে প্রতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম হওয়ায় বন বিভাগ দুই মাসের জন্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
পহেলা মার্চ থেকে কাঁকড়া আহরণের ওপর আরোপিত বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং অনুমতি দিয়ে পুনরায় কাঁকড়া সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হবে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি ছিল কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম, তাই দুই মাসের জন্য বন বিভাগ এই আহরণ নিষিদ্ধ রেখেছিল।
সুন্দরবনের নদী-খালে কাঁকড়া আহরণে প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় প্রজনন মৌসুমে। এই সময় সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
পহেলা মার্চ থেকে বন বিভাগ আবার কাঁকড়া আহরণের অনুমতি (পাস-পারমিট) জারি করে জেলেদের কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ দেবে। এ বছরও উপকূলীয় জেলার জেলেরা ইতোমধ্যে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে নৌকা ও কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম গুছিয়ে নিয়েছে। সাতক্ষীরা, শ্যামনগর, কয়রা ও দাকোপের মতো এলাকা থেকে বহু জেলে কাঁকড়া ধরার জন্য সুন্দরবনের নদী ও খালগুলো বেছে নেয়।
অসংখ্য জেলে সুন্দরবনের জলাভাগে বৈধভাবে কাঁকড়া সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিশেষ করে কাঁকড়া প্রজাতির প্রতি চাহিদা উচ্চ, যা অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুম শুরু হলে কাঁকড়ার সরবরাহ বাড়ে এবং জেলেদের আয় বৃদ্ধি পায়।
বন বিভাগের লক্ষ্য হলো কাঁকড়ার প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, তাই প্রতিটি বছর এই দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নিয়মিত মনিটরিং ও টহলের মাধ্যমে অবৈধ আহরণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কাঁকড়া জেলে রিপন হোসেন বলেন, ১ মার্চ থেকে কাঁকড়া আহরণ আবার শুরু হওয়ায় নৌকা ও সরঞ্জাম প্রস্তুত করছি। পাস ছাড়া বন এলাকায় প্রবেশ করবো না।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই দুই মাস সুন্দরবনের কাঁকড়া আহরণ বন্ধ ছিল। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পহেলা মার্চ থেকে কাঁকড়া আহরণ শুরু হচ্ছে। বন বিভাগ অনুমতিপত্র দিয়ে জেলেদের সহযোগিতা করবে এবং নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চলমান থাকবে।
আকাশজমিন / আরআর