শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে কয়েকজন মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত মিলনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এসব এনআইডি ও ছবি সংগ্রহ করেছেন। পরে তার কাছ থেকে ৫২টি ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী মহিলারা জানান, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়ে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছবি ও এনআইডি সংগ্রহ করা হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত কেরালকাতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা মিলনের বাড়িতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং নথিপত্র উদ্ধার করেন। তিনি বলেন, মিলন আওয়ামী লীগ কর্মী এবং প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত। এর আগে তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন মামলা ছিল এবং তিনি কারাভোগ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
এনআইডি কার্ড উদ্ধারকালে উপস্থিত হেলাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মুনসুর জানান, অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের অনুরোধে তাকে পরিবারের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে একটি দলের হয়ে কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।
এ সময় কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
কলারোয়া থানার ওসি এইচ এম শাহিন জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা জেলায় এখন পর্যন্ত ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কোনো সরকারি নির্দেশনা জারি হয়নি।