রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনাবের স্কুলটিতে হামলার পর প্রথমে নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে যায়। পরে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে নিহতের সংখ্যা ৫০-এর বেশি। ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছে, যেখানে ধ্বংসস্তূপ ও হতাহতদের উদ্ধার তৎপরতা দেখা গেছে।
অন্যদিকে রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলে আরেকটি স্কুলে হামলায় অন্তত দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ ভাল বলেন, মিনাবের হামলাটি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে তারা কেবল সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় এবং ইরান সরকারের সামরিক কাঠামোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করে। তবে স্কুলে হামলা ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন এবং বহু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান সরকার।
তবে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা দ্রুত তদন্ত ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
আকাশজমিন / আরআর