ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ভুয়া বলে শনাক্ত হয়েছে। ছবিটি আসল নয় এবং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে—এমন খবর প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য দাবি করে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে। তবে যাচাই-বাছাই শেষে প্রমাণ মিলেছে, প্রচারিত ছবিটি বিভ্রান্তিকর ও এআই-নির্মিত।
বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, তারা ছবিটির সত্যতা যাচাই করে দেখেছে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ছবিটি বাস্তব ঘটনার প্রমাণ নয় এবং এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুজব ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্টচেক টিম নিয়মিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের এআই-নির্ভর ভুয়া ছবি ও তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ায় গুগলের এআই শনাক্তকরণ টুল ‘সিন্থ-আইডি’ (SynthID) ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখা গেছে, ছবিটি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে এআই টুলের সাহায্যে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে। একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল দিয়েও যাচাই করলে ছবিটির কৃত্রিমভাবে তৈরির সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চমানের এআই ইমেজ জেনারেশন প্রযুক্তির কারণে বাস্তব ও কৃত্রিম ছবির পার্থক্য সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে রাজনৈতিক ও সামরিক সংবাদের ক্ষেত্রে ভুয়া ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও ফ্যাক্টচেক সংস্থাগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, তারা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য শনাক্ত করে সত্য তুলে ধরার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে।
ইরান–সংক্রান্ত সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খামেনির মৃত্যু ও সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়ে নানা গুজব ও ভুয়া কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা নাগরিকদের অনুরোধ করেছেন—কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে নেওয়ার জন্য।