ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর পঞ্চম নিমিটজ-শ্রেণির বিমানবাহী রণতরি। এতে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা রাডার এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এই স্ট্রাইক গ্রুপে টমাহক স্থলভিত্তিক হামলা চালাতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত তিনটি ডেস্ট্রয়ার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাধারণত এর সঙ্গে একই ধরনের অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনও মোতায়েন থাকে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের যাচাইকৃত স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওমান উপকূলের কাছে রণতরিটিকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। ওই অবস্থান থেকেই এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখছিল বলে ধারণা করা হয়।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। তবে স্বাধীনভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সামরিক দাবি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি জাহাজে ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক সংস্থা ইউকেএমটিও। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থানরত ওই জাহাজে হামলার পর আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং জাহাজটি তার যাত্রা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে বলে সংস্থাটি জানায়। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, এটি ওই এলাকায় শিপিং রুটে তৃতীয় হামলার ঘটনা। এর আগে ওমানের রাজধানী মাসকাতের উত্তরে, হরমুজ প্রণালিতে এবং ওমানের কুমজারের উপকূলে পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই প্রণালির মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বা হামলার ঘটনা ঘটলে বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব পড়ে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, দেশটি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ইরানের কোনো বিধিনিষেধ নেই এবং দেশটি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানাচ্ছে।