আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ইরান বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়াতে চায় না। বরং আন্তর্জাতিক নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল বজায় থাকুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে আজ দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও। সংস্থাটি বলেছে, ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালির দুই পাশে বহু জাহাজ নোঙর করে আছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অনেক জাহাজ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক তৎপরতার কারণে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির বড় অংশ এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালি বন্ধ না করার ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন, ইরান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা এড়াতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা থাকলেও কূটনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।