পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল, শারজাহ, আবুধাবি এবং দোহার হামাদ ইন্টারন্যাশনালসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত ছয় থেকে সাতটি প্রধান বিমানবন্দরের কার্যক্রম বর্তমানে পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে। এসব বিমানবন্দর ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে কাজ করে। ফলে এগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অনেকটা ‘ডমিনো ইফেক্ট’-এর মতো কাজ করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে সময়সূচি এলোমেলো হয়ে গেছে। বহু আন্তর্জাতিক রুট স্থগিত বা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে এয়ারলাইনসগুলো। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বহুগুণে বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, হামাদ, দুবাই ও আবুধাবি বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত যাত্রী। অনেকে টিকিট পুনরায় বুকিং, হোটেল ভাউচার সংগ্রহ কিংবা বিকল্প ফ্লাইটের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পার করছেন। কিছু যাত্রীকে বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরেই রাত কাটাতে দেখা গেছে।
আকাশসীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল পুনরায় চালু করা হবে না।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমান চলাচল করিডোর হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ফ্লাইট পরিচালিত হয়। তাই আকাশসীমা বন্ধ থাকায় শুধু উপসাগরীয় দেশগুলো নয়, বরং বৈশ্বিক বিমান শিল্পও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
যাত্রীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটালেও কর্তৃপক্ষ সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলেই ধাপে ধাপে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
আকাশজমিন / আরআর