বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং তাদের বিমানবাহিনীর প্রধান কার্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। এতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু কিংবা বিমানবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি আইআরজিসি। হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সোমবার জেরুজালেমের আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরান থেকে ছোড়া নতুন ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা জানায়।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় রাখা হয়েছে।
এদিকে সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি এবং সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনায় হামলার পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন ওই অঞ্চলজুড়ে সার্বভৌম ভূখণ্ডে ইরান এবং তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, উত্তেজনা প্রশমন এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সতর্ক করে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রথম দিন থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলার তৃতীয় দিনেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই দিনে কোনও হতাহতের ঘটনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
সূত্র: এএফপি, মেহের নিউজ।