মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অনন্ত যুদ্ধে’ রূপ নেবে না। সোমবার পেন্টাগনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অত্যন্ত সুক্ষ্ম এবং পরিকল্পিত পদ্ধতিতে হামলা চালাচ্ছে। এই অভিযানের নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় চারজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করে হেগসেথ বলেন, এই ধরনের অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র অভিযানটি সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত রাখার লক্ষ্য রেখেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানি জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা এই ‘অবিশ্বাস্য সুযোগ’ কাজে লাগাবে। হেগসেথ ট্রাম্প প্রশাসনের আগের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘‘এখনই আপনাদের সময়।’’’ তিনি ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতে সাধারণ জনগণের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন।
হেগসেথ ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করে বলেছেন, তাদের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা, নৌ-সম্পদ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা অবকাঠামো ধ্বংস করা।
তিনি আরও বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। হেগসেথ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করেছেন এবং এটি ‘ব্যর্থ চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রতিরোধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মৃত্যু বা ক্ষতি ঘটাচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে ওয়াশিংটন তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইরানের ওপর মার্কিন হামলার মাধ্যমে কৌশলগতভাবে নিরাপত্তা এবং সামরিক দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, হেগসেথ আশ্বাস দিয়েছেন, অভিযান সীমিত এবং লক্ষ্যনির্দিষ্ট।
পেন্টাগন সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামো ধ্বংস করা, যাতে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সম্ভাবনা সীমিত হয়। এছাড়া, ইরানের জন্য এই অভিযান সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করবে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও কূটনীতিকদের নজরে রয়েছে। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।