কাতারএনার্জি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি এবং মেসাইয়িদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অবস্থিত স্থাপনাগুলোর ওপর সামরিক হামলার কারণে এলএনজি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন স্থগিত রাখা হয়েছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক কাতারের এই উৎপাদন ক্ষতি বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
জ্বালানি বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের মানদণ্ড হিসেবে ধরা ‘ডাচ টিটিএফ প্রাকৃতিক গ্যাস’ চুক্তির দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ইউনিট ৪৬ ইউরো ছাড়িয়েছে। এর আগে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের শুরুতে সরবরাহে ব্যাঘাতের আশঙ্কায় দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাতারের উৎপাদন বন্ধের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, হামলায় তাদের উৎপাদন সুবিধাগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মেসাইয়িদ এলাকার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রাস লাফান স্থাপনায় ড্রোন আঘাতের কারণে এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করা হয়েছে। এই বন্ধের ফলে কাতার বিশ্ব বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বাধার মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কাতারের উৎপাদন বন্ধের খবর ইউরোপের জ্বালানি বাজারে তীব্র প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে, ইউরোপের দেশগুলো কাতারের গ্যাসের উপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। উৎপাদন ক্ষতির কারণে গ্যাসের দাম এখন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ইউরোপীয় শিল্প ও জনসাধারণের জন্য ব্যয় বৃদ্ধি করবে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতায় কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবের ওপর পাল্টা হামলা চালানো হয়। কাতারের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল করতে পারে।
বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা রপ্তানিকারক দেশগুলো এবং গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যদি কাতারের উৎপাদন স্থাপনাগুলো দ্রুত পুনঃস্থাপিত না হয়, তবে গ্যাসের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।