ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত

জীবনের শেষ পর্যন্ত খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পক্ষে ছিলেন না : ইরান


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:১৪ পিএম

ইরান জানিয়েছে, জীবনের শেষ পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পক্ষে ছিলেন না এবং এ বিষয়ে তার ধর্মীয় অবস্থান অটল ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি সংক্রান্ত দাবিকে অস্বীকার করে মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বক্তব্য দেয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকাই বলেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বা উৎপাদনের নীতিকে সমর্থন করে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার ধর্মীয় ও নীতিগত অবস্থান থেকে স্পষ্টভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিরোধিতা করেছেন এবং এ অবস্থান পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ নেই।

Ayatollah Ali Khamenei-এর পারমাণবিক নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে জ্বালানি ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য পরিচালিত হচ্ছে।

বাকাই আরও বলেন, জেনেভায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময় ইরানে চলমান সংঘাত ও হামলার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট ছিল। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য।

এদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেশের নাগরিক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে। তেহরান বলছে, সামরিক স্থাপনার বাইরে বেসামরিক অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি জানায়। তবে স্বাধীন সূত্রে এই পরিসংখ্যান এখনো পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দাবি করেছিলেন, জেনেভায় ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু তা যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগে ব্যর্থ হয়। তিনি জানান, তিনি ও জারেড কুশনার ইরানকে দশ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাব অনুযায়ী ওই সময় জ্বালানি ব্যয় যুক্তরাষ্ট্র বহন করবে।

তবে তেহরান ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তারা তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায় এবং নিজস্ব নীতিতে অটল থাকবে। ইরানের কর্মকর্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক আস্থা ও সমঝোতার ভিত্তিতে যে কোনো আলোচনা হতে পারে, কিন্তু চাপ ও সামরিক হুমকির মাধ্যমে নয়।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য দীর্ঘদিনের। নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইস্যুতে ভবিষ্যতে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে অগ্রগতি কঠিন হতে পারে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইরান সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তারা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তদারকির আওতায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রস্তুত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের বক্তব্য ও অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নজরদারির মধ্যে রয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর