ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

কাশ্মীর ইস্যুতে ১৯৯৪–এ ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল ইরান


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:৫০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরান আক্রমণ এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ayatollah Ali Khamenei–কে হত্যার ঘটনায় নয়াদিল্লির ‘অস্বস্তিকর’ নীরবতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী Sonia Gandhi। সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক The Indian Express–এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, আন্তর্জাতিক আলোচনার সময় কোনো ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করা সমসাময়িক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে গভীর ও গুরুতর ফাটল সৃষ্টি করে।

খামেনিকে হত্যা এবং ইরানের সার্বভৌমত্বে হামলার ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এখনো শোকপ্রকাশ বা নিন্দা জানাননি—এ বিষয়টি তুলে ধরে সোনিয়া গান্ধী ১৯৯৪ সালের এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অধ্যায়ের কথা স্মরণ করান। তাঁর মতে, সেই সময় পাকিস্তান যখন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা Organisation of Islamic Cooperation (ওআইসি)–কে সঙ্গে নিয়ে কাশ্মীর প্রশ্নে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনে ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছিল, তখন ইরান ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে তা কার্যত ভেস্তে দেয়।

১৯৯৪: এক কূটনৈতিক থ্রিলার

১৯৯৪ সাল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Benazir Bhutto ওআইসিকে একত্রিত করে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস করাতে সক্রিয় হন। লক্ষ্য ছিল জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনে বিষয়টি উত্থাপন করা। প্রস্তাবটি পাস হলে কাশ্মীর সমস্যা আবারও আন্তর্জাতিকীকরণ পেত এবং তা নিরাপত্তা পরিষদ পর্যন্ত গড়াতে পারত।

সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন P. V. Narasimha Rao। অর্থনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি, বাবরি মসজিদ ধ্বংস–পরবর্তী সমালোচনা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ার অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল ছিল। এমন অবস্থায় রাও বুঝেছিলেন, ওআইসিতে সর্বসম্মতি ভাঙতে পারলে পাকিস্তানের উদ্যোগ ব্যর্থ হবে। আর সেই ‘তুরুপের তাস’ হতে পারে ইরান।


অসুস্থ শরীরে গোপন মিশন

তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dinesh Singh তখন দিল্লির অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (এইমস) ভর্তি। তবু রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অসুস্থ অবস্থাতেই তাঁকে গোপনে তেহরানে পাঠানো হয়। সেনাবাহিনীর বিশেষ বিমানে তিনি পৌঁছান তেহরান। বিমানবন্দরে প্রটোকল ভেঙে তাঁকে স্বাগত জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Ali Akbar Velayati।

দীনেশ সিং ইরানের প্রেসিডেন্ট Akbar Hashemi Rafsanjani–এর হাতে নরসিমা রাওয়ের ব্যক্তিগত অনুরোধপত্র তুলে দেন। কয়েক ঘণ্টার আলোচনায় কাশ্মীর পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়। শেষ পর্যন্ত রাফসানজানি ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেন। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। অবশেষে জানা যায়, ওআইসির প্রস্তাবে ইরান আপত্তি জানিয়েছে। ফলে সর্বসম্মতি হয়নি, পাকিস্তান প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

ইরানি প্রতিনিধি জানান, তারা ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের বন্ধু এবং কাশ্মীর প্রশ্ন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত। এভাবে কাশ্মীরের আন্তর্জাতিকীকরণ ঠেকানো সম্ভব হয়।

বহুদলীয় ঐক্যের বার্তা

নরসিমা রাও শুধু ইরানকেই কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগাননি; আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ঐক্যের বার্তা দিতেও উদ্যোগী হন। জাতিসংঘে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে তিনি বেছে নেন বিজেপি নেতা Atal Bihari Vajpayee–কে। দলে ছিলেন Salman Khurshid, Farooq Abdullah এবং Manmohan Singh। এর মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়—রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ভারত এককাট্টা।

ফারুক আবদুল্লাহর জ্বালাময়ী ভাষণও আলোচনায় আসে। তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন এবং কাশ্মীর রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়ার অঙ্গীকার করেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপট

সোনিয়া গান্ধীর মতে, ১৯৯৪ সালে ইরানের ভূমিকা ছিল ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অথচ আজ ইরানের সংকটকালে ভারতের নীরবতা প্রশ্ন তুলছে। গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা ভারত যদি বৃহৎ শক্তির জবরদস্তির বিরুদ্ধে সরব না হয়, তবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।

ইরানকে ঘিরে সেই ঐতিহাসিক অধ্যায় আজ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কাশ্মীর প্রশ্নে ১৯৯৪ সালের সেই কূটনৈতিক লড়াই প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সময়োচিত সিদ্ধান্ত ও কৌশল কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর