আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনকে শাস্তি দিতে চেয়েছেন, কারণ ইরানে হামলার জন্য দেশটির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে স্পেন রাজি হয়নি। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের রোটা ও মোরন ঘাঁটি ব্যবহার করতে চেয়েছিল, তবে মাদ্রিদ সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছেন।
মাদ্রিদ সরকার ট্রাম্পের হুমকির জবাবে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্মান করবে এবং সম্ভাব্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে। একই সঙ্গে স্পেন সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে সংলাপের আহ্বান জানান এবং বলেন, কোনো ঘৃণ্য শাসনের বিরোধিতা করা যেমন সম্ভব, তেমনি অযৌক্তিক ও বিপজ্জনক সামরিক হস্তক্ষেপেরও বিরোধিতা করা সম্ভব।
সোমবার স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, মাদ্রিদ ইরানে হামলার জন্য দেশের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না। স্পেনের সামরিক ঘাঁটিগুলো যৌথভাবে পরিচালিত হলেও এগুলো দেশের সার্বভৌমত্বের অধীনে রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ স্পেনের রোটা ও মোরন ঘাঁটি থেকে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কারসহ ১৫টি বিমান সরিয়ে নেয়।
ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, স্পেন খুব খারাপ আচরণ করেছে, কারণ তারা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি। তিনি আরও বলেন, আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব এবং স্পেনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি প্রথমবার নয় যে স্পেন ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। ২০২৪ সালে সানচেজ ইসরাইলে অস্ত্র বহনকারী জাহাজ স্পেনে নোঙর করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এছাড়া ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার মার্কিন আহ্বানও স্পেন প্রত্যাখ্যান করেছে।
স্পেন বিশ্বের শীর্ষ অলিভ অয়েল রপ্তানিকারক দেশ। এছাড়া তারা যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি করে। তবে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের হুমকির ক্ষেত্রে স্পেন অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় কম ঝুঁকিতে রয়েছে।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্পেনের বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত ছিল ৪.৮ বিলিয়ন ডলার। মার্কিন জনশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন রপ্তানি ছিল ২৬.১ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ২১.৩ বিলিয়ন ডলার।