ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে মোহাম্মদ মোখবার বলেন, “আমাদের আমেরিকানদের ওপর কোনো আস্থা নেই এবং তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা চাইলে যতদিন প্রয়োজন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবো।” তার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তিন দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান আজ বুধবার (৪ মার্চ) শুরু হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ।
প্রায় ৩৬ বছর ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত শনিবার ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ইসলামিক কাউন্সিল ফর ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশনের এক বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে আইআরএনএ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১০টা থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে এই শহীদ নেতার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন শোকসন্তপ্ত জনগণ। সেখানে ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনিকে তার জন্মস্থান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে সমাহিত করার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে বলে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্রুত পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান আপসের পথের বদলে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মোহাম্মদ মোখবারের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তেহরান আপাতত কূটনৈতিক আলোচনার পরিবর্তে সামরিক প্রস্তুতিতেই গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।