ইরানে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের নাম রাখা হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এই নামকরণের পেছনে কৌশলগত বার্তা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে বিভিন্ন অভিযানের নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ বার্তা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এই হামলার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগনের বিভিন্ন বার্তায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ‘এপিক ফিউরি’ নামটির মাধ্যমে ইরানের উদ্দেশে একটি কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
‘এপিক’ শব্দের অর্থ মহাকাব্যিক বা বিশাল পরিসরের। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতার ব্যাপকতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শুরু হওয়া এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে এক প্রজন্মের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ সমাবেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে ‘ফিউরি’ শব্দের অর্থ তীব্র ক্রোধ। বিশ্লেষকদের মতে, গত চার দশকে আইআরজিসি এবং ইরানি প্রক্সি বাহিনীর হাতে নিহত মার্কিন সেনাদের স্মরণে এবং সাম্প্রতিক উস্কানির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই নামের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, এটি কেবল একটি সীমিত আক্রমণ নয়; বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযান শত্রুপক্ষের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এমন একটি সামরিক পদক্ষেপ যা প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নামকরণের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি শত্রুর জন্য কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতিও স্পষ্ট করা হয়েছে।
‘এপিক ফিউরি’ নামটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিপক্ষের মনোবল দুর্বল করা এবং নিজেদের সামরিক পদক্ষেপকে অনিবার্য ও ঐতিহাসিক বলে উপস্থাপন করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অভিযানের নাম ও তাৎপর্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের বার্তাবাহী নামকরণ ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিতও বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: হোয়াইট হাউস প্রেস বিজ্ঞপ্তি, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি, রয়টার্স এবং আল জাজিরা।