আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তুরস্কের অভিমুখে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র চালানোর খবর প্রকাশ করা হয়নি, এমন বক্তব্য দিয়েছে ইরান। ইরানের সাম্প্রতিক বার্তা অনুযায়ী, দেশটির সামরিক বাহিনী কোনো আক্রমণমূলক পদক্ষেপ নেবে না এবং আকাশসীমায় কোনো ধরনের হুমকি বা ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাবে না। ইতিমধ্যেই ইরান তুরস্কের ন্যাটোর প্রতি আক্রমণাত্মক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না বলে স্পষ্ট করেছে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির সেনাবাহিনী বিবৃতিতে বলেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক প্রতিরক্ষা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে সর্বদা সহযোগিতার লক্ষ্যে শ্রদ্ধাশীল এবং তুরস্ক সম্পর্কেও লক্ষ্য রাখছে। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা ইরান অস্বীকার করেছে।
তুরস্ক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ক্ষেপণাস্ত্র ইরাক ও সিরিয়ার উপরে দিয়ে ওঠে এসে তুরস্কের আকাশসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে মাঝপথে প্রতিহত করার ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, তুরস্ক তার ন্যাটোর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখবে।
ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে। তারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ইরানের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এমন সংযম মূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পাঠাচ্ছে।
ইরান এবং তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনা এবং সেনারী অবস্থা মনিটর করার জন্য দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা নিয়মিত যোগাযোগে আছে। তারা নিশ্চিত করেছেন, তুরস্ক ও ইরান উভয়ই আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আঞ্চলিকভাবে সামরিক উত্তেজনা কমাতে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ সুগম করতে ইরানের এই পদক্ষেপ কার্যকর। একই সঙ্গে, এটি তুরস্কের আকাশসীমা এবং ন্যাটোর সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক।